ছাদবাগানে শিমের চাষ শিমের রোগ-বালাই কিডনী রোগীদের জন্যে শিম, ছাদে শিম চাষ পদ্ধতি, Greeniculture

শিম (ইংরেজি: Bean) একটি অতি পরিচিত লতাজাতীয় বড়গাছের বীজ যা বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে ও এটি ফাবাসিয়া শ্রেণীভুক্ত। শিম মানুষ ও পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পেকে শুকিয়ে যাবার আগে যদি শিমের বীচি তোলা যায় তবে তা হয় সতেজ কাঁচা বা রান্না করে খাওয়ার মতো।

শিমে রয়েছে নানান উপকারিতা

  • রোগ প্রতিকার ও রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে।
  • খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় শিম চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
  • গর্ভবতী মহিলা ও শিশুর অপুষ্টি দূর করতে শিম বেশ উপকারী।
  • নিয়মিত শিম খেলে তা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • শিমে সিলিকনজাতীয় উপাদান থাকে যা হাড় সুগঠিত করে।
  • কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিম সাহায্য করে।
  • নিয়মিত শিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
  • শিমের ফুল রক্ত আমাশয় দূর করতে সাহায্য করে।
  • শিমের দানায় ভিটামিন বি সিক্স ভালো পরিমাণে থাকায় তা স্নায়ুতন্ত্র সুস্থ রাখে ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শিম মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে ও এলার্জির সমস্যার প্রতিকারক হিসেবে বেশ কার্যকর।

বীজ বপনের সময়

আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।

.

ছাদবাগানে শিমের চাষ শিমের রোগ-বালাই কিডনী রোগীদের জন্যে শিম, ছাদে শিম চাষ পদ্ধতি, Greeniculture

মাটি তৈরি

বেলে বা বেলে দো-আঁশ শিম চাষের জন্যে সবচেয়ে উপযোগী।

জমি তৈরি

বেশী জমিতে আবাদ করা হলে কয়েকটি চাষ ও মই দেয়া ভাল।

পিটের দুরত্ব

আপনি যদি ছাদে বড় কন্টেইনারে জমির মত করে শিম লাগান তবে এক পিট থেকে অন্য পিটের দুরত্ব ৩.০ মিটার রাখতে হবে। প্রতি মাদার জন্য সারের পরিমাণ

বীজ বপনের নিয়ম

প্রতি পিটে ৪-৫ টি বীজ বুনতে হয়। বীজ বপনের আগে ১০-১২ ঘন্টা বীজ ভিজিয়ে নিতে হবে। প্রতিটি পিটে ২-৩ টি করে সুস্থ চারা রেখে বাকী চারা তুলে ফেলতে হয়।

পরিচর্যা

কোন অবস্থাতেই গাছের গোড়ায় পানি যাতে না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে জমিতে প্রয়োজন মত সেচ দিতে হবে। মাঝে মাঝে মাটি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে। এছাড়া গাছ যখন ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা হবে তখন পিটে গাছের গোড়ার পাশে বাঁশের ডগা মাটিতে পুঁতে বাউনির ব্যবস্থা করতে হবে।

সার

গোবর১০ কেজি
খৈল২০০ গ্রাম
ছাই২ কেজি
টিএসপি১০০ গ্রাম
এমওপি৫০ গ্রাম

মাদা তৈরির সময় এ সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজালে ১৪-২১ দিন পর পর দু’কিস্তিতে ৫০ গ্রাম করে ইউরিয়া ও ৫০ গ্রাম করে এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে।

পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা

ফল ছিদ্রকারী পোকা ও জাব পোকা দিয়ে শিম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। চারা অবস্থায় পাতা ছিদ্রকারী পোকা বিকাশকে ব্যাহত করে। লাল ক্ষুদ্র মাকড়ও অনেক সময় ক্ষতি করে থাকে। ফুল ফোটার সময় থ্রিপস পোকা ক্ষতি করতে পারে। ফল পাকার সময় গান্ধি পোকা শিমের ক্ষতি করে।

রোগ

শিমের মূলত দুটি রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। মোজাইক রোগ ও অ্যানথ্রাকনোজ। মোজাইক রোগের বাহক মূলত জাবপোকা হয়ে থাকে। এই রোগ দমনের জন্যে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ২-৩ মিলিলিটার) ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে ছাদবাগানে শিম গাছে ১০ দি পর পর ২থেকে ৩ বার করে স্প্রে করতে হবে। সতর্কতার সাথে ঔষধ স্প্রে করতে হবে। অ্যানথ্রাকনোজ হলে মেক্সজিল ৭২ ডব্লিউপি জাতীয় ওষুধ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ

শিম গাছে মূলত আশ্বিন-কার্তিক মাসে ফুল ধরে। ফুল ফোটার ২০-২৫ দিন পর ছাদবাগান থেকে শিম তোলা যায়। ৪ মাসেরও বেশী সময় ধরে ফল দেয়।

ফসলী জমিতে ফলন

৩৫-৭৫ কেজি ( প্রতি শতক), হেক্টর প্রতি ১০-১৫ টন (প্রতি হেক্টর)।

Follow Me

Sadiya Jaman Nisha

Creative Writer at Greeniculture
Storyteller । Math Olympiad Runners up । Business Enthusiastic
ছাদবাগানে শিমের চাষ শিমের রোগ-বালাই কিডনী রোগীদের জন্যে শিম, ছাদে শিম চাষ পদ্ধতি, Greeniculture
Follow Me

Facebook Comments