বাগান থেকে শামুক দূর করার উপায়

আমাদের গ্রিনিকালচারের ফেইসবুক পেইজে আসা বহুরকম প্রশ্নের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রশ্ন হল কিভাবে বাগান থেকে শামুক দূর করা যায়। আপনাদের বাগান থেকে শামুক দূর করবেন কিভাবে, সেগুলো তুলে ধরছি।

নিয়মিত পরিচর্যাভিত্তিক উপায়ে

ক) শামুক স্বভাবতই আর্দ্র, ছায়াযুক্ত স্যাঁতস্যাতে স্থানে থাকে। তাই নিয়মিত বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, শুকনো রাখার চেষ্টা করবেন।

খ) গাছে সকালে পানি দিলে দেখবেন ধীরে ধীরে শামুকের উপদ্রব কমে যাচ্ছে।

গ) গাছের নিচ থেকে মরা পাতা পড়ে থাকলে তুলে ফেলুন এবং আগাছা তুলে ফেলুন, এরা ডাইরেক্ট সূর্যের আলো পছন্দ করেনা তাই এগুলোর নিচে আশ্রয় নিয়ে থাকে।

ঘ) মাঝে মাঝে মাটি খুঁচিয়ে দিন। তাহলে শামুকের ডিম থাকলে নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া এটি গাছের জন্য উপকার।

জৈবিক বা প্রাকৃতিক উপায়ে

ক) টবে বা বেডে গাছের গোড়া ও তার চারপাশে শামুকের চলাচলে বাধা সৃস্টি করতে ডিমের খোসা চূর্ণ ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে শামুকের উপদ্রব কমে যাবে। তবে ডিমের খোসা রোদে শুকিয়ে পরিষ্কার করে ও জীবানুমুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে।

খ) গাছের গোঁড়ায় বা বাগানের এক জায়গায় পেপের কান্ডের কাটা অংশ ফেলে রাখলে দেখবেন বাগানের সমস্ত শামুক ঐ স্থানে ভিড় করছে। এভাবে টোপ ব্যবহার করে শামুক দূর করতে পারেন।

গ) আপনারা যারা সমন্বিত বাগান করেন, তারা বাগানে প্রতিদিন কিছু সময় মুরগি, হাঁস এমনকি ব্যাঙ ছেড়ে দিলে দেখবেন বাগানকে শামুকমুক্ত রাখছে।

ঘ) গাছের আশেপাশে লেবুর রস স্প্রে করলে শামুক ভিড়তে পারে না।

Eliminate snail
বাগানে শামুক

ঙ) কফির গুড়া মাটিতে ছিটাতে পারেন অথবা ঠান্ডা কফি সরাসরি শামুকের উপর স্প্রে করতে পারেন।

চ) আদার তৈরি কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।

ছ) রসুনের তৈরি প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। অথবা,  রসুন ছেঁচে পানিতে ৪/৫ ঘন্টা ভিজিয়ে সেই পানি স্প্রে করতে পারেন।

জ) তামাক পাতার তৈরি প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। অথবা তামাক পাতার গুড়া/ গুল পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।

রাসায়নিক উপায়ে

১) সাবান পানি স্প্রে করতে পারে।

২) বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিতে পারেন। 

৩) চুনের পানি ব্যবহার করতে পারেন।

৪) স্যাভলন মেশানো পানি স্প্রে করতে পারেন।

৫) ট্যালকম পাউডার ছিটিয়ে দিতে পারেন। 

৬) লাইম বা ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করতে পারেন।

৭) ছোট কৌটা মাটিতে পুঁতে তার মধ্যে লবন রেখে দিতে পারেন।

৮) প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম কপার সালফেট (copper sulphate)মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।

৯) আইরন-ফসফেট (iron phosphate) ছিটিয়ে দিতে পারেন।

১০) মেটাল্ডিহাইড (metaldehyde) ছড়িয়ে দিয়ে সফলভাবে দমন করা যায়।

১১)মাটিতে দানাদার কীটনাশক অথবা সেভিন পাউডার ব্যবহার করতে পারে। 

ব্যবহারবিধি

ক) কোনো প্রকার কীটনাশক ব্যবহারের আগে গাছের ডালে উঠে যাওয়া শামুক গুলো ব্রাশ/ কাঠি দিয়ে ফেলে দিবেন।

খ) যেকোনো ধরণের রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের সময় গাছের গোড়া থেকে দুরে প্রয়োগ করবেন।

গ) দিনের প্রখর সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে প্রাকৃতিক কীটনাশক কিংবা যেকোনো রাসায়নিক কীটনাশক গাছে স্প্রে করবেন না। ভোরে অথবা সন্ধ্যার আগে গাছে স্প্রে করবেন।

Imtiaj Alam Rimo
Follow Me

Leave a Reply