বাংলাদেশে স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনা ও পদ্ধতি | Greeniculture

স্ট্রবেরি ফল হিসেবে সবার খুবই পরিচিত। এটি দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও খুবই সুস্বাদু ও বিভিন্ন খাবার ডেকোরেশনে ভীষণ জনপ্রিয়। স্ট্রবেরির উদ্ভিদতাত্বিক নাম Fragaria ananassa। স্ট্রবেরি ছোট ঝোপালো লতানো/গুল্ম প্রকৃতির গাছ থেকে হয়। এর শক্ত কোন ডালপালা বা কান্ড নেই। পাতা সবুজ, ছোট, কিনারা খাঁজকাটা, থানকুনি পাতার মতো; পাতার বোঁটাও লম্বা, সরু, নরম এবং বেশ বাহারি লোমশ। ঝোপের মধ্যেই ছোট ছোট ঘণ্টার মতো সাদা বা ঘিয়া রঙের ফুল ফোঁটে। সরু সুতার মতো বোঁটার মাথায় একটি একটি করে ফল ধরে। কাঁচা ফলের রঙ প্রথমে সবুজ, ক্রমে সাদা এবং পাকলে উজ্জ্বল টকটকে লাল হয়। স্ট্রবেরির ফল আর দশটি ফলের মতো সাধারণ ১টি ফল নয়। এটি একটি পরিবর্তিত যৌগিক ফল। অন্যান্য ফলের মতো এর ভিতরে কোনো বীজ থাকে না, শুধুমাত্র ফলের বাইরে এর বীজ ধারণ করে থাকে। এক থোকাতে অনেকগুলো ফল ধরে। স্ট্রবেরির পাকা ফল টকটকে লাল রঙের হয়। এ ফলটি সুগন্ধীযুক্ত, টক মিষ্টি স্বাদের। এর আকর্ষণীয় রঙ, গন্ধ ও উচ্চ পুষ্টিমানের জন্য স্ট্রবেরি বিশ্বব্যাপী খুবই জনপ্রিয় ও সমাদৃত।

ইতিহাস

একসময় রাজকীয় খাবার হিসেবে  স্ট্রবেরি পরিচিত ছিল। আজ আমরা রাস্তাঘাটে স্ট্রবেরি পরে থাকতে দেখি। স্ট্রবেরি, স্ট্রবেরি ভর্তা, স্ট্রবেরির চাটনিসহ বিভিন্ন পণ্য- সবকিছুই অনেক সহজলভ্য।আপনার ভালো লাগলে কিনে ফেলছেন আবার ভালো না লাগলে ফেলে দিচ্ছেন! একটা সময় ছিল যখন এতো সহজ ব্যাপার  ছিল না। সেসময় স্ট্রবেরি ছিলো রাজকীয় খাবার।

১৭৪০ সালে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে স্ট্রবেরি সর্বপ্রথম চাষ শুরু হয়। একইসাথে ইউরোপ আর উত্তর আমেরিকায় স্ট্রবেরির জন্মস্থান। অবশ্য সেসময়ের স্ট্রবেরি কিন্তু ঠিক আজকের মতন এতো রসালো, এতো বড় ছিল না। সান কিংয়ের পরিকল্পনানুসারে রাজকীয় হস্তক্ষেপেই তৈরি হয় বর্তমান স্ট্রবেরির ইতিহাস। এরপর অবশ্য ফলটি ভ্রমণ করে অনেকটা পথ। ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই ফ্রেজিয়ার নামে এক গুপ্তচরকে পাঠান চিলি আর পেরুর দুর্গ থেকে খবরাখবর নিতে। তার ইচ্ছে ছিলো স্পেনের সিংহাসন দখল করার। তবে ফ্রেজিয়ার কেবল খবরাখবরই নয়, সাথে করে কিছু স্ট্রবেরিও এনেছিলো সেবার। চিলিয়ান স্ট্রবেরি অবশ্য এতো সহজে জন্ম নেয়নি ফ্রান্সে। আর এখন নতুন, পুরনো সবরকমের স্ট্রবেরি মিশে সুস্বাদু আর চমৎকার স্ট্রবেরির জন্ম দিলো। কেমন সেই স্ট্রবেরিগুলো? সে তো আপনার জানাই আছে।। ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে সর্বপ্রথম স্ট্রবেরীর চাষ করা হয়। এটি পরবর্তীতে চিলি, আর্জেন্টিনা এবং কালক্রমে অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি পড়ে সেসব এলাকায় বারি স্ট্রবেরি-১ নামে একটি উচ্চফলনশীল জাতের স্ট্রবেরি চাষ করা হচ্ছে। জমির পাশাপাশি টব, বাড়ির আঙিনায়, বারান্দায় বা ছাদে এই ফল চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে আমাদের দেশের যশোর, শ্রীমঙ্গল,রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ প্রভৃতি জায়গায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে স্ট্রবেরি চাষ ও বাজারজাত করা হচ্ছে। একজন বেকার নারী বা পুরুষ নিজের কর্মসংস্থান ব্যবস্থার জন্য নিজের জমিতে অথবা বর্গা নেওয়া জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

বাংলাদেশে স্ট্রবেরির আগমন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. মনজুর হোসেন ১৯৯৬ সালে জাপান থেকে একটি স্বল্প দিবা দৈর্ঘ্য জাতের স্ট্রবেরী বাংলাদেশে আবাদের চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি প্রথমে দেখতে পান যে, এই জাতটি রানারের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি হচ্ছে না। এমনকি ফলের আকার অনেক ছোট হচ্ছে। পরে ২০০৭ সালে দেশে প্রথম টকটকে লাল রঙের লোভনীয় ফল স্ট্রবেরি চাষের উদ্ভাবন করেন প্রফেসর ড. এম. মনজুর হোসেন।বাংলাদেশে স্ট্রবেরি চাষের উদ্ভাবক হিসেবে তিনি বেশি পরিচিত। তিনি সোমা ক্লোনাল ভেরিয়েশন প্রযুক্তির সাহায্যে বাংলাদেশে চাষ উপযোগী করে রাবি-১, রাবি-২, রাবি-৩ নামে তিনটি জাত উদ্ভাবন করেন।

ব্যবহার

  • স্ট্রবেরি কাঁচা ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে ফ্রুট সালাদ ও কাস্টার্ডে কাঁচা স্ট্রবেরি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া যেকোনো ডেসার্ট পরিবেশের জন্যে স্ট্রবেরি ব্যবহার করা হয়।
  • স্ট্রবেরি দ্বারা মূলত ইন্ডাস্ট্রি পণ্যের জন্য ব্যবহার করা হয়।স্ট্রবেরি দ্বারা জ্যাম, জেলী, স্কোয়াশ, জুস, ক্যান্ডি, কেক, চকোলেট,বিস্কুট ইত্যাদি তৈরীতে ব্যবহৃত হয়।
  • মিল্কশেক কিংবা ককটেল জুস তৈরী করতেও স্ট্রবেরির কোনো জুরি নেই।
  • জাপানের অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি “ইচিগো দাইফুকু” যার মধ্যে রয়েছে আস্ত একটা স্ট্রবেরি, যেটি দেখতে সুন্দর ও গোলাকার।
  • গ্র‍্যানোলা বার, স্ট্রবেরি কেক, স্ট্রবেরি পুডিং তৈরি করা হয়।
  • স্ট্রবেরির স্বাদ, গন্ধের জন্য এটি এসেন্স হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকায় সাবান, লোশন, ফেসওয়াশ,স্ক্রাবার, বাচ্চাদের টুথপেস্ট, বডি অয়েল, শ্যাম্পুতে, বডি স্প্রে, মেয়েদের প্রশাধনিতেও এটি ব্যবহার করা হয়।

স্ট্রবেরির স্বাস্থ্যগুণ

স্ট্রবেরি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ফল। এতে আছে ভিটামিন এ, সি, ই, ফলিক এসিড, সেলেনিয়াম, ক্যালসিয়াম, পলিফেনল, ফেরালিক এসিড, কুমারিক এসিড, কুয়েরসিটিন, জ্যান্থোমাইসিন ও ফাইটোস্টেরল।

কি কি আছে জেনে তো লাভ নেই। বরঞ্চ জেনে আসি এসবের উপকারিতা-

  • এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু জৈব এসিড ও এন্টিঅক্সিডেন্ট (এলাজিক এসিড) রয়েছে; যা বার্ধ্যক্য ও ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। তাছাড়া ত্বকের পরিচর্যার জন্যও স্ট্রবেরি বহুল সমাদৃত।
  • স্ট্রবেরিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি এবং ফাইটোকেমিক্যালস রয়েছে। যা, আমাদের মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ভালো করে। ভিটামিন সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ডায়েট করতে যে এত চিন্তা করছেন, প্রত্যেকদিন স্ট্রবেরি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত মেদ ঝড়ে যায় সহজে।
  • রক্তচাপ কমিয়ে হাইপারটেনশন কম রাখে স্ট্রবেরিতে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম।
  • চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে স্ট্রবেরি।
  • স্ট্রবেরিতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন সি, ফাইটোকেমিক্যালস যা নার্ভাস সিস্টেমের কার্যপ্রণালী সঠিকভাবে করে।
  • স্ট্রবেরিতে আছে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারী ফেসটিন নামক প্রাকৃতিক ফ্ল্যাভোনয়েডস যা মস্তিষ্ক সচল রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
  • গর্ভবতী মায়েদের জন্যও স্ট্রবেরি খুব উপকারী ফল।
  • স্ট্রবেরিতে থাকা ফলিক অ্যাসিড, বি৫, বি৬ চুলকে শক্ত ও গোড়াঁ মজবুত করতে সাহায্য করে।
  • স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ। এটি ত্বকের মৃত কোষ তুলে ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ত্বকে বলিরেখাও দূর করে।পায়ের স্ক্রাবার হিসেবেও দারুণ কাজ করে স্ট্রবেরি।
  • ১ টেবিল চামচ স্ট্রবেরি পিউরি ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। ব্রাশের সাহায্যে মিশ্রণটি দাঁতে ঘষুন। মুখ ধোয়ার আগে ৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে দূর হবে দাঁতের হলদে ভাব।

স্ট্রবেরির জাত

বারি (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট) স্ট্রবেরির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা বিবেচনায় বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বারি স্ট্রবেরি-১, বারি স্ট্রবেরি-২ ও বারি স্ট্রবেরি-৩ নামে ৩টি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে একটি করে স্ট্রবেরির উন্নত জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত জাত রাবি-১, রাবি-২, রাবি-৩ এবং মডার্ন হর্টিকালচার সেন্টার, নাটোর থেকে সরবরাহকৃত জাত মডার্ন স্ট্রবেরি-১, মডার্ন স্ট্রবেরি-২, মডার্ন স্ট্রবেরি-৩, মডার্ন স্ট্রবেরি-৪, মডার্ন স্ট্রবেরি-৫, আমাদের দেশে চাষযোগ্য জাত হিসেবে আস্তে আস্তে জনপ্রিয়তার দিকে এগোচ্ছে।

উপযুক্ত সময়

স্ট্রবেরির চারা লাগানোর সময় আশ্বিন মাসে(মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) উপযুক্ত সময়।

চাষ পদ্ধতি

স্ট্রবেরি শীতকালীন দেশের ফল হলেও বাংলাদেশের যেসব এলাকায় শীত বেশি পড়ে ও অনেক দিন স্থায়ী হয় সেসব এলাকায় বারি স্ট্রবেরি-১ নামে একটি উচ্চফলনশীল জাতের স্ট্রবেরি বর্তমানে চাষ করা হচ্ছে।

চারা তৈরি

স্ট্রবেরির চারা ২ ভাবে পাওয়া যায়। স্ট্রবেরির বীজ থেকে অথবা রানার থেকে পাওয়া যায়। এখানে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন বীজ থেকে যে বছর চারা তৈরি হবে ফল সেই বছর পাওয়া যায় না কিন্তু রানার থেকে যে বছর চারা তৈরি করা হবে ফল সেই বছরেই পাওয়া সম্ভব।

স্ট্রবেরির পটের প্রস্তুতি

কোনো মাটির টব অথবা তেল বা পানির বোতল কেটে স্ট্রবেরি গাছ লাগানো যাবে।  তেলের বোতল হলে প্রথমে বোতলটি ভালো করে ধুয়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিতে হবে, যেনো বোতলে কোন তেল লেগে না থাকে। এরপর বোতলের নিচে তিন/চারটি ছিদ্র করে দিতে হবে যেনো বায়ু চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। টবে বা বোতলের ছিদ্র করে নিতে হবে যাতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে।

মাটি প্রস্তুতি

এরপর মাটি প্রস্তুত করে নিতে হবে।স্ট্রবেরির জন্য বেলে দোঁআশ মাটি উপযোগী।কোনো শুকনো গোবর এবং কম্পোস্ট  মিক্সড করে মাটিকে উর্বর করে নিতে হবে। যে কোনো নার্সারীতেই গোবর সার পাওয়া যায়। গোবর যদি হাতের কাছে পাওয়া না যায় তবে বাসায় ব্যবহৃত শাক সবজির উচ্ছৃষ্টাংশ পচিয়ে তা সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। টবে মাটি দেয়ার আগে ছিদ্রগুলা ছোট পাথর দিয়ে বন্ধ করে নিতে হবে।স্ট্রবেরি পানি পছন্দ করে না তাই টবে খানিকটা বালু দিয়ে দিতে পারেন যাতে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন হয়ে যেতে পারে।

স্ট্রবেরির চারা লাগানো

মাটিতে চারা লাগাতে হবে। রোদ এই গাছের জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে সারাদিন সরাসরি সূর্যালোক থেকে গাছ দূরে রাখা ভালো। সকালের হালকা সূর্যালোক আর শেষ বিকেলের মৃদু রৌদ্র গাছের জন্য উপকারী। আবার খেয়াল রাখতে হবে রাতের‌ শিশির যেনো গাছের উপর পড়ে। মোট কথা গাছের সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত রোদ এবং শিশির দুটোই প্রয়োজন।

চারা লাগানোর কিছুদিনের মধ্যেই নতুন করে আরও কিছু চারা জন্মাতে থাকে, যা থেকে চারা গাছের সংখ্যা বাড়ানো যায়।

স্ট্রবেরির পরিচর্যা

অন্যান্য গাছের মতোই স্ট্রবেরির নিয়মিত কিছু পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।

  • নিয়ম করে আগাছা পরিষ্কার।
  • মরা পাতা কেটে ফেলে দেয়া।
  • মাঝে মাঝে মাটি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হয়।
  • প্রতিদিন অল্প করে পানি দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেনো পানি জমে না থাকে।
  • গাছে ফুল আসার পর একটু বাড়তি পরিচর্যার প্রয়োজন।
  • গাছে ফল ধরার পর খেয়াল রাখতে হবে ফল যেনো মাটি স্পর্শ না করে। ফল মাটি স্পর্শ করলে পচে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
  • এছাড়াও পাখির আক্রমণ থেকে ফলকে সাবধানে রাখার‌ জন্য, ফুল আসার পর পরই গাছ নেট দিয়ে ঢেকে দেয়া ভালো।

সার

স্ট্রবেরি চাষে তেমন কোন সার এর প্রয়োজন‌ হয় না। তবে পনেরো/বিশদিন অন্তর অন্তর সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া সার‌ টবের চারপাশের মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া ভালো (গাছের গোড়ায় দেয়া যাবে না, আর সার দেবার পর অবশ্যই পানি দিতে হবে)। এতে গাছ প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন পাবে এবং সসতেজ থাকবে।

ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

  • স্ট্রবেরি বারি-১ এর ফল সংগ্রহ পৌষ মাস থেকে শুরু করে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে(ডিসেম্বর থেকে মার্চ)।
  • যখন স্ট্রবেরি ফল পেকে টুকটুকে লাল হবে তখন সংগ্রহ করতে হবে।
  • এই ফল অনেক নাজুক হয় তাই সংগ্রহকালে কোনো পাতলা ট্রে কিংবা  ডিমের ট্রে কিংবা ফলের ঝুঁড়িতে নিতে হবে যাতে ফল গাদাগাদি অবস্থায়  না থাকে।
  • স্ট্রবেরির গুণ ও সংরক্ষণ ক্ষমতা কম তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি ব্যবহার করতে হবে বা খেয়ে ফেলতে হবে।
  • যারা টবে বা ছাদে চাষ করবেন তারা যে রানার গুলো বের হবে তা কেটে দিবেন তাহলে প্রচুর ফলন পাওয়া যাবে।

স্ট্রবেরি দিয়ে তৈরি রেসিপি নিয়ে পড়ুন এখানে।

Facebook Comments