ছাদে ও জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বেগুন চাষ | Greeniculture

বেগুন দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার এক প্রকারের ফল যা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।বেগুন গাছ প্রায় ৪০ থেকে ১৫০ সেমি দীর্ঘ হয়। পাতাগুলো ঘন এবং প্রায় ১০ থেকে ২০ সেমি দীর্ঘ ও ৫ থেকে ১০সেমি প্রশস্ত হয়। বুনো বেগুন গাছ আরো বড় হতে পারে। বেগুনের ফুল সাদা হতে গোলাপী বর্ণের হয়। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। বেগুনের ফল বেগুনীবা সাদা বর্ণের হয়। ফল অনেকটা লম্বাটে নলাকৃতির হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে অনেকগুলো নরম বীজ থাকে। বেগুনের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যে বেগুন খাওয়া খুবই প্রয়োজন।

বিভিন্ন জাতের বেগুন

বাংলাদেশে জনপ্রিয় কিছু বেগুন আছে যা ইতোমধ্যে ব্যবসা সফল। যেমনঃ ইসলামপুরী, খটখটিয়া, লাফফা, ঈশ্বরদী-১, উত্তরা(বারি বেগুন-১), তালবেগুন, নয়ন কাজল, কেজি বেগুন, শিংনাথ, ডিম বেগুন, ঝুমকো, মুক্তকেশী, শুকতারা, তারাপুরী(বারি বেগুন ২), কাজলা (বারি বেগুন -৪), নয়নতারা (বারি বেগুন -৫), বিজয়, চমক এফ ১

বীজতলা তৈরি

বেগুনের চাষাবাদ প্রধানত পলি মাটিতে বেশি হয়। বেগুন চাষের জন্য প্রথমে বীজতলায় চারা তৈরি করে মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। বীজতলা তৈরির সময় কয়েকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন- বীজতলায় যেন পানি না জমে। ঐ স্থানে সব সময় আলো-বাতাস থাকে। বীজতলার কাছাকাছি সেচের ব্যবস্থা থাকলে ভালো। রোগমুক্ত সবল চারা পেতে হলে বীজতলার মাটি শোধন করে নিতে হবে।

চারা উৎপাদন

বেগুন চাষের জন্য চারা উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। শীতকালীন বেগুন চাষের জন্য শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি হতে আশ্বিন মাস এবং বর্ষাকালীন বেগুন চাষের জন্য চৈত্র মাস পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়। বালি, কমপোষ্ট ও মাটি সমপরিমাণে মিশিয়ে বীজতলা তৈরি করতে হয়। সবল চারা পাওয়ার জন্য প্রথমে একটি বীজতলায় বীজ বুনতে হয়। গাছ গজানোর ৮-১০ দিন পর চারা তুলে দ্বিতীয় বীজতলায় রোপণ করতে হয়। এতে চারা স্বাস্থ্যবান হয়। অতিরিক্ত পানিতে বীজ নষ্ট হয়ে যায়।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ

বেগুন বেশ কয়েক মাস ধরে মাঠে থাকে। তাই ভালো ফলন পেতে জমি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে।

.

সাধারণত মাঠের জমি তৈরির জন্য ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে।

.

৩৫-৪৫ দিন বয়সের চারা রোপণের উপযোগী হয়। এ সময়ে চারাতে ৫-৬ টি পাতা গজায় এবং চারা প্রায় ১৫ সে.মি. লম্বা হয়।

.

চারা তোলার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শেকড় নষ্ট না হয়। চারা তোলার ১-২ ঘন্টা আগে বীজতলায় পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে নিলে শেকড় নষ্ট হয় না।

.

বীজতলায় চারা তৈরি করে ৫-৬ সপ্তাহ বয়সের চারা ৭৫ সে.মি. দূরত্বে সারি করে ৬০ সে.মি. দূরে দূরে লাগাতে হয়। বেগুনের জাতের গাছের আকার অনুয়ায়ী এ দূরত্ব ১০-১৫ সে.মি. কম-বেশি করা যেতে পারে।

.

১ মিটার আকারের বীজতলায় প্রায় ৮-১০ গ্রাম বীজ বপন করতে হয়। চারার বয়স ৩৫-৪০ দিন হলে মূল জমিতে রোপণ করতে হয়।

সার প্রয়োগ

কৃষকদের মত গুণগত মানসম্পন্ন ভালো ফলন পেতে হলে বেগুন চাষের জমিতে যতটুকু সম্ভব জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে। মাটি পরীক্ষা করে মাটির ধরন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে জৈব সার ব্যবহার করলে মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশ উভয়ই ভাল থাকবে। বাড়িতে গবাদি পশু থাকলে সেখান থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। নিজের গবাদি পশু না থাওলে প্রতিবেশী থেকে গোবর সংগ্রহ করা যেতে পারে। এছাড়া ভাল ফলন পেতে হলে জমিতে আবর্জনা পচা সার ব্যবহার করেতে হবে। বাড়ি আশেপাশে গর্ত করে সেখানে গোবর, আবর্জনা ও ঝরা পাতা একসাথে রেখে পচিয়ে সার তৈরি করা যেতে পারে।

রোগ বালাই 

প্রভাব

ফিউজিয়াম ছত্রাক দ্বারা বেগুনের ঢলে পড়া রোগ হয়। গাছের গোড়া ও শেকড় বিবর্ণ হয়ে যায়। এ রোগ হলে গাছের পাতা নেতিয়ে পড়ে ও গাছ ঢলে পড়ে। ফলে গাছ মারা যায়।

প্রতিকার

স্থানীয় ভাবে তৈরি জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। এতেও রোগ নির্মূল না হলে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সেচ ও নিষ্কাশন

শীতকালীন ও আগাম লাগানো বর্ষাকালীন বেগুনের জাতের জন্যে প্রচুর পরিমাণে পানি দেওয়া আবশ্যক।

.

বেলে মাটিতে ১০-১৫ দিন পরপর সেচ দেওয়া যেতে পারে।

.

বর্ষাকালীন ও বারোমাসী জাতের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।

আন্তঃপরিচর্যা

গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্যে মাঝে মাঝে গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে।

.

জমিতে আগাছা দেখা দিলে মাঝে মাঝে তা পরিষ্কার করতে হবে। 

.

জমির গোড়ায় কচুরীপানা ও খড়কুটো দিয়ে রাখতে হবে যেন গড়ার মাটি দ্রুত শুকিয়ে না যায়।

.

বয়স্ক গাছে ফল উৎপাদন কমে গেলে গাছের গোড়ার দিক থেকে ২০ সেমি রেখে বাকি অংশ কেটে দিতে হবে। এরপর সার ও পানি প্রয়োগ করলে দ্রুত শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়ে নতুন করে ফল দিবে আবার।

সংগ্রহ

খাওয়ার উপযোগী বেগুন গাছ থেকে তোলার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় কোনোপ্রকার আঘাত না লাগে। গাছ থেকে তোলা বেগুন কাঁচা পাতা বা শুকনো খড়ের গাদায় রাখতে হবে যেন ফলে কোনোপ্রকার আঘাত না লাগে। এটি অতি প্রয়োজন।

Sadiya Jaman Nisha
Follow Me

Facebook Comments