বাংলাদেশের কিছু সুপরিচিত আগাছা – দ্বিতীয় পর্ব

আগাছা একধরণের অবাঞ্চিত উদ্ভিদ, যা ফসলের ক্ষেতে বপন ছাড়াই জন্মে ফসলের অনিষ্ট সৃষ্টি করে থাকে। বলা যেতে পারে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ফসলের ক্ষেতে অন্য কোনো উদ্ভিদ জন্মালেই সেটি আগাছা হিসেবে চিহ্নিত হয়। বহুল পরিচিত কিছু আগাছাকে আমরা সচরাচর দেখতে পাই। এদের মধ্যে কিছু আগাছা ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন। কিন্তু ফসলের উৎপাদন হ্রাস করায় সকল আগাছাই ক্ষতিকর। গতপর্বে আমরা কয়েকটি আগাছা চিনেছি। এই পর্বে জানবো আরও চারটি আগাছা সম্বন্ধে। আগের পর্ব পড়ুন এখানে

কাঁটানটে

কাঁটানটে দেশের সর্বত্র পতিত স্থান ও পথের ধারে জন্মে। বর্ষজীবী কাঁটাযুক্ত বীরুৎ। ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়। কাণ্ড নরম, শাখাযুক্ত। পাতা ডিম্বাকৃতি, বোঁটা লম্বা। প্রত্যেক ডালের আগায় মঞ্জরি থাকে। ফুল ছোট, ধূসর-সাদাটে বর্ণের। ফুল ও ফল সারা বছর হয়। কাণ্ড ও শিকড় বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজে লাগে। বীজ থেকে চারা হয়। ভারত, শ্রীলংকা ও বিভিন্ন উষ্ণ অঞ্চলে এ গাছ পাওয়া যায়।

কাঁটানটে আগাছা

কাঁটানটে আগাছা

বীজ চকচকে কালো। এরা বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। এরা ভিজা মাটিতে সারা বছর জন্মাতে পারে; তবে এরা দাঁড়ানো পানি সহ্য করতে পারে না। এরা উর্বর জমি ও উচ্চ তাপমাত্রা পছন্দ করে। আমাদের দেশে আউশ ধানে এ আগাছার  প্রাদুর্ভাব হয়ে থাকে। এ আগাছার কারণে শতকরা ৮০ ভাগ পর্যন্ত ফলন কমে যেতে পারে। এরা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম আগাছাগুলোর অন্যতম।

আরাইল

আরাইল একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস জাতীয় আগাছা। সাধারণত জলাবদ্ধ জমিতে জন্মাতে পছন্দ করে। এরা ১.২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের কাণ্ডের গোড়ার দিকের পর্বসন্ধি থেকে শেকড় বের হয়। গাছের রঙ হালকা সবুজ।

আরাইল

আরাইল

এরা বীজ, গেড় এবং স্টোলনের সাহায্যে বংশবিস্তার করে। প্রতিকূল পরিবেশে এ আগাছার বেঁচে থাকার অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। বাংলাদেশে এ আগাছা নিচু জমিতে জন্মাতে দেখা যায়। এ আগাছা ধানের শতকরা ৬০ ভাগ পর্যন্ত ফলন কমিয়ে দিতে পারে।

গৈচা

এ ঘাস দেখতে অনেকটা দুর্বা ঘাসের মতো তবে আকারে কিছুটা বড়। এটি স্যাঁতসেঁতে বা জলাবদ্ধ জমিতে জন্মাতে পারে। সাধারণত বীজ ও কাণ্ডের সাহায্যে বংশবিস্তার করে। এ আগাছা সরাসরি বোনা, ভিজা ও রোপা ধান ক্ষেতে জন্মাতে দেখা যায়।

গৈচা

গৈচা

গৈচা বহুবর্ষজীবী ঘাস জাতীয় আগাছা। এর কাণ্ড মাটিতে শোয়া অবস্থায় বৃদ্ধি পায়। সবুজ অথবা হালকা খয়েরি রঙের কাণ্ড বেশ শক্ত হয়। কাণ্ডের আগায় ৩-৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা দুটি পুস্পমঞ্জুরি হাতের আঙুলের মতেো ছড়ানো থাকে। এ দুটি স্পাইক দেখে সহজেই এদেরকে সনাক্ত করা যায়।এরা ধানের সাথে প্রতিযোগিতা করে শতকরা ২৫ ভাগ পর্যন্ত ফলন কমিয়ে দিতে পারে। আরও পড়ুন নাইট্রোজেন প্রধান এজোলা উৎপাদন

উলু

“উলু বনে মুক্তো ছড়ানো”- এই বহুল পরিচিত বাগাধারাটির সাথে আমাদের সকলেরই জানা। কিন্তু কখনো কি কেউ উলু বন দেখেছি? কিংবা কি এই উলু, সেটাই বা কয়জনে জানতাম আমরা? উলু একটি বহুবর্ষজীবী বিরুৎ জাতীয় আগাছা। এর কাণ্ড খাড়া, সরল ও মসৃণ। এটি সাধারণত ১২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পাতা সবুজ ও সরু। এ আগাছার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর পুষ্পমঞ্জুরি ঘন চকচকে সাদা তুলার মতো আশযুক্ত নলাকার স্পাইক ধরনের যা বেশ দূর থেকে সনাক্ত করা যায়। অনেকটা আমাদের পরিচিত কাশফুলের মতো দেখতে।

উলু

উলু

ভিজা ও শুকনো উভয় জমিতে এরা ভাল জন্মে। সাধারণত বীজ ও  রাইজোম দিয়ে বংশবিস্তার করে। আউশ ধানের জমিতে উলু বেশি আক্রান্ত হয়। উলু হালকা বুনট মাটি পছন্দ করে এবং এর রাইজোম ধ্বংস করা খুবই কষ্টকর। এটি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম আগাছাগুলোর মধ্যে অন্যতম। জমিতে এর উপস্থিতি ফসলকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ করে দিতে পারে। তাই উলু বনে কখনোই মুক্তা ছড়ানো যাবে না। উলু দেখলেই তৎক্ষণাৎ তুলে ফেলতে হবে।

Ahmed Imran Halimi
Follow Me