শতগুণী অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা(Aloevera) – বাংলায় যাকে আমরা চিনি ঘৃতকুমারী নামে। ঢাকা শহরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এলোভেরার জ্যুসের বেশ প্রচলন হওয়ায় আমাদের এই উদ্ভিদটি সম্বন্ধে বেশ জানাশোনা আছে। আর নারীকূলে বহু বছর ধরে রূপচর্চা প্রসাধণী হিসেবে বেশ ভালোই জনপ্রিয় এই শতগুনী উদ্ভিদটি। অ্যালোভেরাতে ৯৯% পানি, ১% এমিনো এসিড, মিনারেল, সুগার, এনজাইম, স্যালিসাইলিক এসিড এবং আরো ৬৯ টি এক্টিভ উপাদান থাকে।

ঘৃতকুমারি চাষের সব থেকে উত্তম পদ্ধতি

গাছ থেকে পাতা মাঝখান বরাবর কেটে নিন ধারালো ছুরির সাহায্যে। তারপর পাতাটি দুই সপ্তাহ উষ্ম স্থানে রেখে দিতে হবে। পাতাটি বাদামী রঙ হয়ে আসলে টবে লাগাতে হবে। তবে টবের নিচে যেন ছিদ্র থাকে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। টবে ঝরঝরে মাটি দিতে হবে। মাটির মাঝে পাতা গুজে পানি দিয়ে দিতে হবে। এমন জায়গায় রাখতে হবে যেন রোদ সরাসরি পড়ে। প্রতিদিন পানি দিতে হবে পর্যাপ্ত পরিমানে। ৪ সপ্তাহের মধ্যেই গাছটি বড় হওয়া শুরু করবে। টবে অ্যালোভেরা গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে ১/৩ বালু এবং ২/৩ দো-আঁশ মাটি মিশিয়ে নিতে হবে। অ্যালোভেরা গাছের গোড়ার অংশ কেটে ফেলে গাছকে টবে খাড়াখাড়ি ভাবে না লাগিয়ে একটু এংগেল করে লাগাতে হবে। ১১ টি সহজে পরিচর্যাযোগ্য ঘরোয়া উদ্ভিদ সম্বন্ধে জেনে নিন।

জলসেচন

বসন্ত এবং গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন গাছে পর্যাপ্ত পরিমান পানি দিতে হবে। কোন অ্যালোভেরা গাছ মাটিতে লাগানোর সময় পানি ঢেলে দেখতে হবে কতক্ষণ সময় লাগে। কারন গরম আবহাওয়ায় অ্যালোভেরা গাছ অনেক পরিমান পানি শোষন করে মাটি থেকে। তবে শরৎ এবং শীতে মাঝেমাঝে পানি দিতে হবে।

সার তৈরি

টবের অ্যালোভেরা গাছ দ্রুত বৃদ্ধির জন্য বাসায় খুব সহজেই প্রাকৃতিক সার বানানো যায়। সার তৈরির জন্য ৪-৬ ডিমের খোসার চূর্ণ,আলু,বেগুন,লাউ এর খোসা, কয়েকটি কলার খোসা পানিতে ভিজিয়ে রেখে  পাত্র ঢেকে রাখতে হবে ৩-৪ দিন। তারপর ফেনা উঠে গেলে মিশ্রণটিকে ছেঁকে পানিটাকে আলাদা করে টবের অ্যালোভেরা গাছে প্রতি ১৫ দিন পর পর।

অ্যালোভেরা(Aloe Vera)

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা কেয়ার গাইড 

অ্যালোভেরার গাছটাকে পর্যাপ্ত সূর্যের আলোর জন্য দক্ষিণ দিকে রাখা উচিত। কারন অধিকাংশ সাকুলেন্ট প্লান্টগুলোর পর্যাপ্ত পরিমান বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য অনেক বেশি আলোর প্রয়োজন।

অ্যালোভেরার গুণাবলী

অ্যালোভেরার গুণাবলী বলে শেষ করা যাবে না-

ক) হজমে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীর থেকে বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে। আলসার প্রতিরোধ করে। কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক উপকারী। ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। ওজন কমাতে সাহায্য করে। চুল এবং তকের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দন্ত রোগের চিকিৎসায় উপকারী। পোকামাকড় কামড়ালে অথবা কোথাও পুড়ে গেলে এটি লাগালে আরাম পাওয়া যায়।

খ) কৌষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসায় এটি সারা বিশ্বব্যাপী খুবই প্রচলিত।