স্নেক প্ল্যান্ট। নাম শুনলেই একটা সাপ, সাপ অনুভূতি আসে। হ্যা, এই হাউজপ্ল্যান্টের বিশেষ সর্পিলাকৃতির জন্যেই এমন নাম। বাংলায় কেউ কখনো অনুবাদ করার প্রয়োজন মনে করেনি এই উদ্ভিদটির। সর্পিল উদ্ভিদ বলা যেতে পারে।

.

স্নেক প্ল্যান্ট লিলি গোত্রের একটি বিশেষ ঘরোয়া উদ্ভিদ। ঘরোয়া মানে একেবারেই ঘরকণ্যা; রোদ, বৃষ্টি, জৈবসার, বিশেষ পরিচর্যার খুব একটা প্রয়োজন নেই বললেই চলে। আর ঘরে থেকে শুধু সৌন্দর্য্যবর্ধন করেই ক্ষান্ত থাকে না এই উদ্ভিদটি, অনেক ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ, বায়ু পরিশোধন ও অধিক স্থায়ী হয়ে থাকে।

.

এই উদ্ভিদের একটি বেশ মজার নাম আছে। অনেকে একে “মাদার-ইন-ল’স টাং” বা (Mother-in-law’s Tongue) নামেও অভিহিত করেন। মানে খাঁটি বাঙলায় “শ্বাশুড়ির জিহবা”; হয়ত বেশি পরামর্শ দেওয়া শ্বাশুড়িদের সম্মানার্থে জিহবা সদৃশ দেখতে পাতার নাম থেকে এটা দেওয়া।

.

গবেষণা ও বিভিন্ন উদ্ভিদতাত্ত্বিক সংস্থার স্টাডি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্নেক প্ল্যান্টের ০৬ টি বিশেষ উপকারিতা জানলে হয়ত আপনিও আপনার ঘরে এমন উপকারি বন্ধুকে জায়গা না দিয়ে পারবেন না।

 

অধিক রোদ বা ছায়া যেকোনো স্থানেই বেড়ে ওঠে স্নেক প্ল্যান্ট

নাসার গবেষণায় বায়ু পরিশোধণকারী

স্নেক প্ল্যান্ট আপনার ঘরের জন্যে একটি আদর্শ বায়ু পরিশোধনকারী। নাসার গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে, আমাদের বায়ুতে উপস্থিত বিষাক্ত গ্যাস যেমন ফরমালডিহাইড, জাইলিন, টলুইন এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডকে বিয়োগ করতে বিশেষভাবে পারদর্শী। বিভিন্ন অটোমটিভ ইন্ডাস্ট্রি, শোরুম, প্লাইউড, কার্পেটিং, ছাপাখানা, রঙ বানানো ফ্যাক্টরি, অফিসে এসব রাসায়নিক পদার্থ বায়ুতে ছড়িয়ে থাকে এবং ব্যবহৃত হয়, সেসব স্থানে বিভিন্ন কর্ণারে স্নেক প্ল্যান্ট স্থাপন করে খুব সহজেই এসব দূর করা সম্ভব।  নাসার পরামর্শ অনুযায়ী,  ১৮০০ বর্গফুট মহাকাশ স্পেস স্টেশনে ১৫-১৮ টি মাঝারি থেকে বৃহত্তর সাইজের স্নেক প্ল্যান্টই সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক কণাকে দূর করতে যথেষ্ট!

রাতের অক্সিজেন ব্যাংক

অন্যান্য অক্সিজেন নিঃসরণকারী উদ্ভিদের চেয়ে স্নেক প্ল্যান্ট রাতের বেলায় বেশি পরিমাণে কার্বণ ডাই অক্সাইডকে অক্সিজেনে রূপান্তর করতে পারে। সেজন্যে যেকোনো বদ্ধ ঘরে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির জন্যে ৬-৮ টি স্নেক প্ল্যান্টই অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যথেষ্ট। এছাড়াও স্নেক প্ল্যান্ট এয়ার কন্ডিশনার থেকে নির্গমিত ফর্মালডিহাইড দূর করে থাকে।

বাথরুমের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতে

আমাদের বাথরুমে ব্যবহৃত টয়লেট পেপার, টিশ্যু, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে ব্যবহৃত কসমেটিকস তৈরিতে ফর্মালডিহাইড ব্যবহার করা হয়। এটা আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে রক্তে মিশে জীবনবিধ্বংসী ক্যান্সার এর কারণও হতে পারে। বাথরুমে ২-৩ টি স্নেক প্ল্যান্ট রাখুন, এটি বাথরুমের স্বল্প আলো ও আর্দ্র পরিবেশের সাথে মানিয়ে ফর্মালডিহাইড শোষণ করবে।

স্বল্প পরিচর্যাই যথেষ্ট

উপরে উল্লেখিত স্নেক প্ল্যান্টের অন্যসব উপকারী দিকগুলোর সাথে যেটি সংযুক্ত না করলেই নয়, এটি অন্যতম একটি স্বল্প পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ। কড়া রোদ কিংবা ছায়াযুক্ত স্থান, পানিশূণ্য মরুভূমি; যেকোনো পরিবেশেই স্নেক প্ল্যান্ট বেড়ে উঠতে পারে। মূলত, অবহেলাতেই এটি খুব সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

এলার্জি ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সাহায্য করে

স্নেক প্ল্যান্ট বিষাক্ত পদার্থ শোষণ ও অক্সিন নির্গমণ করে। অনেক সময় স্নেক প্ল্যান্ট বাতাসে আর্দ্রতা নিঃসরণ করে এলার্জিবাহী কণাকে হ্রাস করে। যাদের এলার্জির সমস্যা অধিক, তারা ঘরে বা অফিসে ২-১ টি স্নেক প্ল্যান্টকে সবসময় রাখতে পারে। এটি প্রাকৃতিক ও স্বস্তা উপায়ে আপনাকে সুস্থ রাখবে। ঘরের অভ্যন্তরীণ দুষিত বায়ু ও পরিবেশের জন্যে সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম নামে একটি ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের স্বাস্থ্যের উপর পড়তে পারে। যার ফলে নাক, কান ও গলায় জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। এছাড়া কাশি, মাথা ঘোরা, চুলকানি, বমি বমি ভাব, মনোযোগহীনতা, অবসাদ এর উপদ্রব তৈরি হতে পারে।

এর বেশ কিছু কারণের মধ্যে অন্যতম প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশনের অভাব, কার্পেট, ফটোকপি মেশিন, কীটনাশক, পরিচ্ছন্নতায় ব্যবহৃত উপাদান ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া, মোল্ডোস, ভাইরাস জন্মাতে সাহায্য করে। এসব ক্ষতিকর প্রভাব করায় স্নেক প্ল্যান্ট অধিক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

আকর্ষণীয় বাহ্যিকতা

বায়ু পরিশোধণ নিয়ে তো অনেক বললাম, এবার এটার গঠনপ্রকৃতি নিয়ে কিছু বলি। স্নেক প্ল্যান্ট অনন্য প্রকৃতির একটি ঘরোয়া উদ্ভিদ। কাণ্ডহীন, ঢালবিহীন, পুরু, লম্বা পর্ণরাজিকে দেখতে কৃত্রিম  মনে হয়, সেই সাথে পাতার উপরে সবুজ, হলদে বা ধূসর এলোমেলো দাগগুলোকে একে আরও আকর্ষণীয় করে।

.

আরও পড়ুনঃ ১১ টি সহজে পরিচর্যাযোগ্য ঘরোয়া উদ্ভিদ

Facebook Comments

One Reply to “স্নেক প্ল্যান্টের গবেষণায় প্রমাণিত ৬টি অজানা উপকারিতা”

Comments are closed.