বাংলাদেশের কিছু সুপরিচিত আগাছা | Greeniculture
আগাছা অবাঞ্চিত, সমস্যা সৃষ্টিকারী বা অনিষ্টকর উদ্ভিদ যা বপন ছাড়াই অতিমাত্রায় জন্মায়। আগাছা সাধারণত একধরণের উদ্ভিদ যা কিনা খাদ্য-পুষ্টি গ্রহণে তাঁর আশেপাশের ফসলের সাথে প্রতিযোগীতা করে। যার ফলে আগাছার আশেপাশে জন্মানো অন্যান্য উদ্ভিদসমূহ পুষ্টির অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এমনকি মারাও যেতে পারে। আগাছা অধিক বংশবিস্তারে সক্ষম। এদের জীবনচক্র স্বল্পমেয়াদি। আগাছাকে সরুপাতা বা প্রশস্ত পাতাবিশিষ্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

শ্যামা

শ্যামা একটি দৃঢ় ও খাড়া কাণ্ডবিশিষ্ট বর্ষজীবী আগাছা। এটি ১.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ ঘাসের গোড়ার দিক হতে এর শাখা উৎপন্ন হয়। এর পাতা রৈখিক, মসৃণ ও গাঢ় সবুজ, দেখতে ধান গাছের পাতার মতো। পাতার খোলস লিগিউলবিহীন, কিছুটা লোমযুক্ত ও কাণ্ডের সাথে ঢিলাভাবে যুক্ত। চারা অবস্থায় এদেরকে ধানের চারার মতো দেখায়। এরা সাধারনত ভিজা ও পানিযুক্ত ভিজা মাটিতে ভাল জন্মে।

শ্যামা আগাছা

এ জাতের আগাছার অনেকগুলো প্রজাতি আছে। এ ঘাসের পুস্পমঞ্জুরি দৃঢ়ভাবে বসানো থাকে। পুষ্পছড়ার রঙ বেগুনি সবুজ বা ফ্যাকাশে বেগুনি এবং ফুল লম্বাকৃতির শুড়বিশিষ্ট হয়। সাধারণত বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। উঁচু জমির ধান ক্ষেতে এবং নিচু জমিতে এ আগাছা প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। এরা ধানের সাথে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা করে। এর কারণে কখনো কখনো শতকরা ৯০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এটি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম আগাছাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের স্ট্রবেরি চাষের সম্ভাবনা নিয়ে পড়ুন।

আঙুলী ঘাস

আঙুলী একটি বর্ষজীবী ঘাস জাতীয় আগাছা। এটি ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। পুস্পবিন্যাস ৩-৮টি স্পাইক ধরনের ছড়াগুলো লম্বা বোঁটার উপরে চারদিকে আগ্রাসীভাবে ছড়ানো থাকে যা দেখতে হাতের আঙুলের মতো। এ জন্যই এ আগাছা আঙুলী ঘাস নামে পরিচিত।

আঙুলি ঘাস

এ ঘাস সাধারণত আর্দ্রতাযুক্ত ভিজা জায়গায় ভাল জন্মে। এরা বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। এ আগাছা পরিস্কার করার পর আবার খুব দ্রুত গজিয়ে ধানের ক্ষতি করতে পারে। এরা আউশ ধানের সাথে প্রতিযোগিতা করে প্রায় ৭০ ভাগ পর্যন্ত ফলন কমাতে পারে।

মুথা

এটি একটি সেজ জাতীয় আগাছা ৷ এর কাণ্ড খাড়া, শাখাবিহীন, মসৃণ, ত্রিকোণাকৃতির ও সাধারণত ১০-৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা ঘন সবুজ, সোজা ও কিছুটা মোড়ানো। ও এদের দমন করা খুব কষ্টকর। এরা বীজ ও কন্দের মাধ্যমে বংশবস্তিার করে। জমি চাষাবাদের ফলে এদের কন্দের সতেজতা বেড়ে যায় এবং খুব দ্রুত গতিতে বংশবিস্তার করে।

মুথা ঘাস

দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সাধারণত উঁচু জমির ধানক্ষেতে (আউশ ধানে) এ আগাছা বেশি ক্ষতি করে।  তাছাড়া রোপা ধান চাষে জমি কাদা করার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না থাকলে অথবা রোপণ করার পর জমি শুকিয়ে গেলে এ আগাছার প্রকোপ বেড়ে যায়। এরা ধানের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত ফলনের ক্ষতি করতে পারে। মুথা বিশ্বের ১০টি অতি ক্ষতিকর আগাছার মধ্যে অন্যতম। আগাছা পরিচিতির দ্বিতীয় পর্ব পরুন এখানে।

বড় চুচা

বড় চুচা একটি বর্ষজীবী আগাছা। এটি সাধারণত ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর কাণ্ড ত্রিকোনাকার, মসৃণ ও গুচ্ছযুক্ত। পত্রফলক সোজা তলোয়ারের মতো। পুষ্পবিন্যাস ছাতাকৃতির। পুষ্পবিন্যাসে হলুদ থেকে সবুজ বর্ণের অসংখ্য পুস্পমঞ্জুরি  খাড়াভাবে ছড়ানো থাকে। এ আগাছা শুষ্ক জমির চেয়ে স্যাঁতসেঁতে জমিতে বেশি জন্মে। ধানের অন্যতম ক্ষতিকর এ আগাছা আমাদের দেশে আউশ, রোপা আমন ও বোরো জমিতে জন্মে থাকে। এ আগাছা ধানের চারার মূল ও অঙ্গজ বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে এবং খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতা করে কখনো কখনো ধানের শতকরা ৪০ ভাগ ফলন কমিয়ে দেয়। জয়ফল নিয়ে জানুন বিচিত্র তথ্য।

হলদে মুথা

একটি বর্ষজীবী সেজ জাতীয় আগাছা। এটি খাড়াভাবে ১০-৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। কাণ্ড ত্রিকোণাকার, হালকা সবুজ রঙের ও কিছুটা দুর্বল। পাতা হালকা সবুজ, সরু ও দুর্বল এবং গাছের চেয়ে কিছুটা ছোট আকারের হয়। পুষ্পবিন্যাস ঘন ও গোলাকার ৷ ফুল গুচ্ছাকার ও গোলাকার। এরা সাধারণত বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। এরা সাধারণত নিচু জমিতে জন্মে।

হলদে মুথা

সারা বছরই এদের অংকুরোদগম হতে পারে। এরা ৩০ দিনের মধ্যেই জীবনচক্র শেষ করে এবং অসংখ্য বীজ উৎপাদন করে ধান ক্ষেতে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। মাঝে মাঝে আউশ ধানের জমিতে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এরা ধানের সাথে প্রতিযোগিতা করে শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ পর্যন্ত ফসলের ক্ষতি করতে পারে।

Facebook Comments