ছাদবাগানেই গ্রিনহাউজ বানিয়ে চাষ করুন ক্যাপসিকাম

ক্যাপসিকাম, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহ বাংলাদেশেও এটি খুবই পরিচিত সবজি। তিনটি রংয়ের বাহারে এটিকে দেখা যায়। লাল ক্যাপসিকাম, আছে সবুজ ও হলুদ ক্যাপসিকাম। এটি মিষ্টি মরিচ বা বেল পিপার নামেও বেশ সুপরিচিত। সারাবিশ্বে টমেটোর পরই ক্যাপসিকামের স্থান। বাংলাদেশে ক্যাপসিকাম চাষের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। শহুরে বাসাবাড়ির ছাদে চাইলেই এটি এখন চাষ করা যায় ৷

ইতিহাস

দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকায় ক্যাপসিকামের উৎপত্তি। এটিকে ইউরোপ নিয়ে আসেন নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস, যখন তিনি নতুন আবিষ্কার করা আমেরিকা হতে ইউরোপ ফিরে আসেন৷

ইতিহাস হতে দেখা যায় যে, খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ বছর থেকেই এটি রন্ধনশালায় ব্যবহৃত হচ্ছে৷ পরে এটা যেসব মানুষ দ্বারা অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে পরে যারা আমেরিকা হতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তরিত হয়৷

পরবর্তীতে এটা বিশ্বের সকল দেশগুলোতে চাষাবাদ শুরু হয়৷ ৭০% এর বেশি ক্যাপসিকাম উৎপাদন করে থাকে এশিয়া (FAO 2017)৷ চীনে ক্যাপসিকাম এর প্রচুর চাষ রয়ে থাকে৷ বিশ্ববাজারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে তুর্কি, স্পেন এবং ইউনাইটেড স্টেটস।

ক্যাপসিকাম চাষ

শুষ্ক পরিবেশ এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা খুব বেশি দরকার ৷ ১৬-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকা ভালো। তবে ১৬-২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর কম হলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ব্যাহত হতে পারে। অক্টোবরে বীজ বপন করা যেতে পারে এবং নভেম্বরের শেষের দিকে চারা লাগানো ভালো।

তবে এসময় ও রাতের তাপমাত্রা কমে যায়। তাই উন্নত দেশ যেমন জাপান, আমেরিকা, নেদারল্যান্ড এসব দেশে গ্রিনহাউজ তৈরি করে চাষ করা হয়। তবে বাংলাদেশে পলিথিন হাউস, পলিভিনাইল হাউস তৈরি করে চাষ করা সম্ভব। এর জন্য মাটিতে ৫.৫-৭.০ pH দরকার। দো-আশ ও বেলে দো-আশ মাটিতে ক্যাপসিকাম চাষ করা হয়। জৈব পদ্ধতিতেও করা যেতে পারে ক্যাপসিকামের চাষ।

ক্যাপসিকাম এর জাত

Yellow Wonder, california Wonder এবং tender bell(F1) এগুলোর বীজ আমদানি করা হয়। তবে california Wonder এর বীজ বাংলাদেশে উৎপাদনের সম্ভব ৷

আরও পড়ুনঃ ক্যাপসিকামের উপকারিতা

জীবনকাল

ক্যাপসিকাম এর জীবনকাল ১২০ দিন। তবে জাত বেধে ১৪০ দিন পর্যন্তও হতে পারে।

সময়কাল

ক্যাপসিকামের বীজ বপনে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে নভেম্বর।

চারা রোপন

প্রথমে মাটি তৈরি করে নিতে হবে। দো-আশ মাটি ও সমপরিমান কেচো সার বা একবছরের পঁচানো গোবর সার নিতে হবে। এর সাথে  অর্ধেক চামচ ইউরিয়া, অর্ধেক চামচ ফসফরাস ও অর্ধেক চামচ পটাশ ও অর্ধেক চামচ ম্যাগনেসিয়াম সালফেট মিশিয়ে নিতে হবে। টবে খুব সুন্দর করে চেপে চেপে মাটি ভরতে হবে। সাথে দিতে পারেন পটিং মিক্স। যাতে ফাঁকা স্থান পেয়ে ফাংগাস আক্রমন করতে না পারে। তার পর  টবে স্থানান্তরিত করতে হবে। এখন গাছটাকে পূর্ণ সূর্যালোকে রাখতে হবে।

Red capscicum

লাল ক্যাপসিকাম

সার প্রয়োগ

২১ দিন অন্তর অন্তর ১ চামচ ইউরিয়া সার চারার চতুর্দিকে ছিটিয়ে দিতে হবে৷সার প্রয়োগ করার পর পানি দিতে হবে।

রোগবালাই

এটা এফিড, রেড মাইট, ইয়েলো মাইট, লিফ মাইনর, থ্রিপস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। নিমের বীজ গোড়া করে পানিতে ভিজিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। গুড়া সাবান স্প্রে, ম্যালাথিয়ন ১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

রাতে যেভাবে রাখবেন

যাদের কাচের ঘর তৈরি করা আছে, তারা রাতের বেলায় চারাটাকে সেখানে রাখবেন। যাতে উষ্ণতা দরে রাখতে পারে। আর যারা আরও সহজে করতে চান, তারা পলিথিন দিয়ে ঘর বানিয়ে নিতে পারেন। এটাও উষ্ণতা দরে রাখতে পারে।

সংরক্ষণ

পলিথিন অথবা বাক্সে ভরে ফ্রিজে রক্ষণ করা যায়। এভাবে ক্যাপসিকাম ৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে।

Leave a Reply