৯টি নান্দনিক ফলের গাছ যা আপনার বাড়িতেই রোপণ করতে পারবেন | Greeniculture

আপনি কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন যে রকমেলন, পাইনবেরি এবং প্যাশন ফলের গাছ লাগাতে পারবেন? আপনার বাড়ির ঠিক পাশে থাকা বাগানে এটি সম্ভব! এই  ফলের গাছগুলো আপনার বাগানকে একটি ফলের বাটি বানানোর পাশাপাশি নান্দনিক করে তুলবে কিন্তু আপনার প্রতিবেশীরা আরও খুশি হবে যদি আপনি তাদের এই অপূর্ব ও উপাদেয় ফলগুলো উপহার দিবেন।

বিদেশী যে ফলগুলো বাড়ির আঙিনায় রোপণ করতে পারবেন তা হল-

১. রাম্বুটান

 লিচুজাতীয়  এই ফলটি পুষ্টিমান ও ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর। রাম্বুটান দেখতে অনেকটা কদম ফুলের মতো। কাঁচা অবস্থায় এই বিদেশি ফলটি দেখতে সবুজ হলেও পাকলে টকটকে লাল রং এর হয়।

রাম্বুটান

থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া , লাউস, ব্রুনাই , ভিয়েতনামে ও কম্বোডিয়ায় রাম্বুটান চাষ হয়। এই ফলের কলম চারা বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন নার্সারিতেই তৈরি হচ্ছে। অনেকেই বাণিজ্যিক ভাবে বড় বড় জমি নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন।

২. রকমেলন

রকমেলন অন্যতম সতেজ একটি ফল। যারা এটির স্বাদ নিতে চান, জেনে রাখুন এটির স্বাদ শশার পাশাপাশি এক চিমটে লেবুর মত হয়। প্রধানত তাইওয়ান ও ভারতে এই ফলের উৎপাদন হয়। মধ্যপ্রাচ্যে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

রকমেলন

বাংলাদেশেও আস্তে আস্তে পরিচিতি বাড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে রক মেলন চাষ হচ্ছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে।

৩. ড্রাগন ফল

বিদেশি এই ফলটি বাংলাদেশে এখন বেশ জনপ্রিয়। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, গাজীপুরে বাণিজ্যিকভাবেই এর আবাদ করা হচ্ছে। আসতে শুরু করেছে দেশীয় ফলের বাজারেও। এর গায়ে ড্রাগনের ফুলকি আকৃতির অংশবিশেষের কারণে একে ড্রাগন ফল বলা হয়। এর ভেতরে অসংখ্য ছোট ছোট বীজ থাকে। ভেতরের খাদ্য অংশ লাল বা সাদা দুইরকমেরই হতে পারে।

ড্রাগন ফল

৪. চতুর্ভুজাকৃতির তরমুজ

কে আশা করে তরমুজ চতুর্ভুজাকৃতির হবে? কেউনা! এটি প্রথমে অবাক লাগলেও কিন্তু আপনি যখনি এই চমৎকার ফলের স্বাদ নিবেন, আপনি আর কোনদিন ও সাধারণ তরমুজ খেতে চাবেন না! তবে এটি কোনো বিশেষ জাতের তরমুজ নয়।

চতূর্ভুজাকৃতি তরমুজ

সাধারণ তরমুজের বৃদ্ধিকালীন সময়ে বিশেষ বর্গাকার কাচ বা কাঠের বক্সে ঢুকিয়ে বাড়তে দিলে এটি সুন্দর চতুর্ভূজাকার আকৃতি ধারণ করে।

৫. প্যাশন ফল

এই ফল বাজার থেকে না কিনে বরং চাষ করে অনেক টাকা বাঁচাতে পারবেন, কারণ এটি খুবই দামি ফল। প্যাশন ফলকে অনেকে ট্যাং ফল বলে থাকেন। এটি আমাদের দেশে সিলেট অঞ্চল ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বেশ ভাল জন্মে।

প্যাশন ফল

প্যাশন ফল খেতে কমলার মতো, কিন্তু এর চেয়েও বেশি সুস্বাদু। প্যাশন ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। এটি মূলত রস উৎপাদনে চাষ করা হয়। রোগীদের জন্যে এর রস খুবই উপকারী।

৬. পাইনবেরি

এরা শুধু দেখতেই নান্দনিক নয় ,এদের স্বাদেও ভিন্নতা রয়েছে! স্ট্রবেরি যারা চিনেন, তাদের জন্যে পাইনবেরি খুব একটা অপরিচিত হওয়ার কথা না। পাইনবেরি দেখতে পুরোপুরি স্ট্রবেরির মতোই, গায়ের রঙ শুধুমাত্র সাদা হয়। এর স্বাদ আবার পাইন এপেলের মতো। স্বাদ ও চেহারা দুইটি ফল থেকে ধার করায় এর নাম হয়েছে পাইনবেরি।

পাইনবেরি

৭. অ্যাভোকাডো

এটি পৃথিবীর অন্যতম মৌলিক  গাছগুলোর একটি। অ্যাভোকাডো ফলটি গাজীপুর ও টাংগালাইয়ের বিভিন্ন মিশনারীর আঙ্গিনায় প্রথম পরীক্ষামূলক চাষের শুরু করা হয়। এর তেলের জন্যে খুবই জনপ্রিয় ও অনেক ভেষজ গুণের জন্যে এটি পশ্চিমা দেশে বেশ জনপ্রিয়। কিছু জাতের অ্যাভোকাডোতে ২৬ ভাগের বেশি তেল থাকে।

এভোক্যাডো

৮. জংলি আতা

করোসল বা জংলি আতা বা টক আতা। অনেকগুলো নাম এই ফলের। যে নামই হক না ক্যানো এটি বেশ দামী ও উপকারি একটি ফল। রংপুরে প্রথম এই ফলের পরীক্ষামূলক চাষ করেন এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনি সফল হন। এই ফলটিতে কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত উপাদান উপস্থিতি থাকায় ক্যান্সার প্রতিরোধে করোসলের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এর স্বাদ কিছুটা টক দই এর মতো।

করোসল

৯. আলুবোখারা

আমার কাছে এটি খুবই প্রিয় কারণ এর স্বাদ শিল্পের মত। কাচ্চির সাথে কিসমিস না হলেও চলে, কিন্তু আলুবোখারা বিহীন কাচ্চিকে আসল কাচ্চি কখনোই বলা যাবে না। এর টক স্বাদ কাচ্চি সহ রাজকীয় খাবারের গুরুত্ব বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে।

আলুবোখারা

এর ভিতরে একদম সাদা এবং বাইরে গাড় বেগুনি হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই আলু বোখারা পাকতে শুরু করে। পাকা ফলের দেখতে লালচে হলুদ। খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। ভেতরের শক্ত বীজ থাকে। বীজ থেকেই চারা করা যায় খুব সহজে।

Facebook Comments